কেহ যদি কখনও আমাদের অপদস্থ করে তখন কী সান্ত্বনা আমরা পাই যদি মনে রাখি যে শ্রীভগবানের কোলে আমাদের স্থান আছে। প্রতিকূল অবস্থা উপিস্থত হইলে ইহার প্রতি বিরুদ্ধভাবাপন্ন হইও না। ভগবানকে স্মরণ করিয়া সব কিছু সহ্য করিতে চেষ্টা কর। তবেই প্রকৃত বল লাভ করিবে। জীবনে যাহা কিছুই ঘটুক না কেন, তঁার সঙ্গে যে যুক্ত হইয়া আছি, এ জ্ঞান আমাদের কি আশ্চর্য অনুভূতি জাগায়। আমরা অমৃতের অধিকারী এ কথা মনে রাখিতে হইবে।
উন্নত ভাব দিয়াই আমরা ক্ষুদ্র তুচ্ছ ভাবকে জয় করি। অশুভ তো আছেই কিন্তু তাহাকে অনিবার্য সত্য বলিয়া গ্রহণ আমরা কেন করিব? আমরা নিশ্চয়ই তাহাকে বাধা দিতে পারি। সকলেই এক ভগবানের উত্তরাধিকারী। তঁাহার আশীর্বাদ আমাদের সকলের উপরে সমভাবে বর্ষিত হইতেছে। কিন্তু অামরাই নিজেদের সেই আশীর্বাদ হইতে বিঞ্চত করি। জানি না আমরা কিভাবে তাহাকে রক্ষা করিতে হয়। আমরা তুচ্ছ চিন্তায় মগ্ন থাকিয়া মহৎ আশীর্বাদ লাভ করিতে পারি না।
হৃদয়কে যদি খুলিয়া দিয়া একনিষ্ঠ হইয়া থাকিতে পার, তবে সেই পরম সত্তা তোমাকে কখনও বিঞ্চত করিবেন না। জীবনে নানারকম শাসন আসে, তাহা তোমাকে আরও মহৎ ও বলীয়ান করিবার জন্যই। যে ভক্ত সে সর্বদা নিজের শক্তি ও নিরাপত্তার জন্য ভগবানের দিকে তাকাইয়া থাকে। সাহসী ও সহনশীল হও। বীর হৃদয় অপরাজিত, অবিনশ্বর।
যে পথ আমাদের ভগবানের দিকে লইয়া যায়, সেই পথকে আমাদের প্রস্তুত করিতে হইবে, তঁাহার সঙ্গে যোগস্থাপনের চেষ্টা আমাদের করিতে হইবে। কোন মূল্যবান কাজ করিবার আগে অামাদের তঁাহার পূর্ণ শক্তির অধিকারী হইতে হইবে। দেহের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য আমাদের অন্তরের গুণাবলী অবহেলা করা উচিত নয়। আমাদের প্রাণ যদি উন্নত আদর্শে ভরিয়া রাখিতে পারি তবে নিশ্চয়ই তঁাহার সাথে যুক্ত হইতে পারিব। সত্যি যদি আমরা পূতপবিত্র হইতে পারি তবে তাহার ডাকে সাড়া না দিয়া বধির হইয়া থাকিতে পারিব না।
যাহাদের স্বভাবে সুকুমারভাব নাই তারা পবিত্রতা কি, তাহাও জানে না। আমাদের ভিতরে যে মহাশক্তি বর্তমান, সে শক্তি আমাদের নিজস্ব নয়, যদিও আমরা তাহার আধার। যখন মনের অবস্থা ঠিক, তখন সেই শক্তি আমাদের মধ্য দিয়া বিপুল েস্রাতে প্রবাহিত হয়। আমরাই পবিত্র ও স্বার্থবিমুখ হইয়া সেই শক্তির প্রবাহে সহায়তা করি। আমাদের চিন্তা যেন আলোকে উদ্ভাসিত হয়। আমরা যেন সাধুজীবনের জ্যোতিতে বিশ্বাস ও ভক্তির জ্যোতিতে জ্যোতির্ময় হই।
‘প্রতিদিনের চিন্তা ও প্রার্থনা’ থেকে
No comments:
Post a Comment