Sunday, June 5, 2011

‘মায়ের আশীর্বাদ’


বিনীত হওয়ার অর্থ মন প্রাণ দেহ কখনও ভুলবে না যে ভগবান ছাড়া তারা কিছুই জানে না, তারা কিছু করতেই পারে না–ভগবান ছাড়া তারা হল কেবল অজ্ঞান। একমাত্র ভগবানই সত্য, জীবন, শক্তি, প্রেম, অানন্দ।

কাজেই মনের প্রাণের দেহের এই জ্ঞান এই বোধ হওয়া চাই যে ভগবানকে বুঝবার বিচার করবার বিন্দুমাত্র ক্ষমতা তাদের নেই, শুধু ভগবানের স্বরূপ নয়, তাঁর কর্ম, তাঁর প্রকাশও নয়।

এই হচ্ছে একমাত্র সত্যিকার বিনয়, এটা থাকলেই মেলে স্থিরতা, শািন্ত। এই হচ্ছে সকল অশািন্তর আক্রমণের বিরুদ্ধে একমাত্র নিরাপদ ধর্ম। সত্যি কথা বলতে কি, মানুষের মধ্যে অপশক্তি এসে যে দরজায় করাঘাত করে তা হল অহংকার, এই দরজার ভেতর দিয়েই সে আসে।

কেবলমাত্র আপন জীবনযাত্রার পরিবর্তন দ্বারা তুমি আশা করতে পার সত্যিকার স্বাস্থ্য

কোনো মানুষী ইচ্ছাই শেষ পর্যন্ত ভগবানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে টিকবে না। এস, আমরা সম্পূর্ণভাবে কেবলমাত্র ভগবানের পক্ষে গিয়ে দাঁড়াই, শেষ পর্যন্ত বিজয় সুনিিশ্চত।

সময়ের কথা না ভেবে, স্থানিক ভয় না করে, আমরা এগিয়ে চলব অগ্নিপরীক্ষার ভেতর দিয়ে পবিত্র হয়ে–না থেমে কেবল আমরা উড়ে চলব সিদ্ধির লক্ষ্যের অভিমুখে–অতিমানসের বিজয়ের দিকে।

অন্যকে ‘‘সাহায্য’’ করবার বাসনা যেন তোমাকে পেয়ে না বসে–তোমার আন্তরিস্থতি থেকে তুমি নিজে ঠিক মতো কাজ করে চল, ঠিকমতো চল আর অপরকে সাহায্য করার ব্যাপারটা ভগবানের ওপর ছেড়ে দাও। সত্যি সত্যিই কেউ কাউকে সাহায্য করতে পারে না–একমাত্র ভগবানের করুণা ছাড়া। আগে ভেতরটা, বাইরেটা পরে। তা নইলে আমাদের আন্তরশক্তি ও জ্ঞানের সীমা ছাড়িয়ে যদি কিছু করতে যাই তা ব্যর্থ হবে, ভেঙে পড়বেই।

শিশু তার আপন বিকাশের জন্য মোটেই চিন্তা করে না, সে আপনা থেকেই সহজে বেড়ে ওঠে।

চল ঋজু হয়ে দৃঢ়ভাবে লক্ষ্য সম্বন্ধে সচেতন হয়ে, নিজে তোমার জীবনের প্রভু হয়ে।

পূর্ণ সিদ্ধির পথে যে মানুষ এগিয়ে যেতে চায়, সে কখনো জীবনের বাধাবিেঘ্নর জন্য প্রতিবাদ করবে না–প্রতিটি বাধাই হল আরও একপা এগিয়ে যাবার সুযোগ–প্রতিবাদ মানেই হল দুর্বলতা ও কপটতার লক্ষণ।

‘ভগবান’–বলতে আমরা এই বুঝি... যাকিছু জ্ঞান আমাদের অর্জন করতে হবে, যাকিছু শক্তি আমাদের লাভ করতে হবে, যাকিছু ভালোবাসার পাত্র আমাদের হয়ে উঠতে হবে, যাকিছু পরিপূর্ণতা আমাদের পেতে হবে, জ্যোতি আর আনন্দকে অবলম্বন করে যাকিছু সুসঙ্গতিময় ও প্রগতিমূলক তা জীবন মাঝে প্রকাশ করতে হবে, যাকিছু অজ্ঞাত এবং অভিনব আলো রয়েছে তাদের উপলিব্ধ করতে হবে।

কানুপ্রিয়  চট্ট্যপাধ্যায়  সংকলিত ‘মায়ের আশীর্বাদ’ থেকে

No comments:

Post a Comment